নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জে তিন ক্যাটাগরিতেই স্বর্ণ জয়ের স্বপ্ন দেখছে তরুণেরা
শুক্রবার। বাংলাদেশে ছুটির দিন। স্কুল-কলেজ বন্ধ। বন্ধের দিনেই বিশ্ব চ্যালেঞ্জে অংশ নিয়েছে দেশের খুদে-কিশোর-তরুণ প্রবলেম সলভাররা। এদের মধ্যে ৪৫০টি টিমে হাজার তিনেক এবং সাত সকালেই রাজধানীর অ্যামেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে এসে নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জের ৩৬ ঘণ্টার চ্যালেঞ্জে অংশ নিয়েছে ৫০টি দল। বিশ্বের ১৮৫টি দেশের লক্ষাধিক প্রবেলম সলভার অংশ নিচ্ছে এবারে চ্যালেঞ্জে।
প্রতিযোগীরা প্রত্যেকেই নাসার ডেটা ব্যাংক থেকে তথ্য নিয়ে কেউ অ্যাপ বানাচ্ছে, কেউ তৈরি করছে গেইম। কেউবা বানাচ্ছে ড্রোন ও রোবট।
এবারের ‘হেলিওফিজিক্স বিগ ইয়ার’ চ্যালেঞ্জে সৌরজগতের ওপর সূর্যের প্রভাবকে সামনে রেখে ২০টি সমস্যার সমাধান বাতলে দিচ্ছে তারা। কমিউনিটি ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে প্রলঙ্করি বন্যায় খাদ্য ঘাটতি ও নিরাপদ খাবার পানির মতো নানা বিষয়ের পাশাপাশি চৌম্বকীয় অভিকর্ষের মতো সময়ে যখন ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস ব্যবহার বিপথ জনক হয়ে উঠবে তখন কীভাবে নিরাপদ যোগাযোগ রক্ষা করা যাবে তা নিয়েও মাথা ঘামাচ্ছে বিশ্ববিদ্য্যালয় পড়ুয়া উদ্ভাবকেরা।
এদেরই একটি দল চুয়েট থেকে আসা টিম প্লানেট পাইওনিয়ার্স। তারা| সৌরজগতের বাইরের জগত সম্পের্কে পিছিয়ে পড়াদেরও আগ্রহী করে তুলতে তৈরি করছে শিক্ষণীয় ভিডিও। চুয়েটের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী ইশরাক জাহান আরিফার নেতৃত্বে এই দলের সদস্যরা হলেন সঞ্জয় দাস, অম্লান সরকার তুর্ণা ও জান্নাতুল নাঈম ইসমি। এছাড়াও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দল এক্সোকোয়স্ট এর তালহা মাহমুদ ও সাব্বির আহমেদ মহাবিশ্বের তথ্য নিয়ে অ্যাপ বানিয়েছে ছোটদের জন্য।

মজার বিষয় হলো ছোটরাও অ্যাপ ও গেম বানাচ্ছে বড়দের জন্য। এদেরই একটি দল সোলার শ্যাডো। ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী সুবহা সাফায়াত সিজদার নেতৃত্বে এই খুদে প্রবলেম সলভার দলে রয়েছেন পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী সেজদা জাকির তারল্য, মিরহা সিনায়াত, আমিনুর রহমান সাজিম ও গোলাম তাহরীম বিন আরিক।
শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় শেষ হবে নাসা স্পেস অ্যাপসের এই গ্লোবাল চ্যালেঞ্জ। দুপুর থেকে স্থানীয় বিচারকেরা মূল্যায়ন শুরু করবেন প্রতিযোগীদের প্রকল্পগুলো।
শুক্রবার সকাল সাতটায় শুরু হয় নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০২৪। দুপুরে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে লালা সালাম দিয়ে মেধার বিশ্বে রংপুরের আবু সাঈদ- ঢাকার ফ্রিল্যান্সার মুগ্ধ ও ড্রোন নির্মাতা তানভীনের রক্তস্নাত নতুন বাংলাদেশের পতাকাকে সমুন্বত করা শপথ জানান বেসিস সভাপতি সভাপতি রাসেল টি আহমেদ। এসময় এআইইউবি-এর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রহমান বলেন, আমরা একটি নতুন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে আগাচ্ছি। এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে আমাদের প্রযুক্তির সকল খাতে সমানভাবে উন্নয়ন করতে হবে। এই উন্নয়নের জন্য আমাদের তরুণদেরকে বেশি বেশি উৎসাহ প্রদান করা প্রয়োজন এবং এই প্রযুক্তিভিত্তিক উন্নয়নের মাধ্যমেই আমরা নতুন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বাস্তবায়ন লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো। পাশাপাশি এটিও গুরুত্বপূর্ণ যে, তরুণদের মধ্যে বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির প্রতি উৎসাহ প্রদান করা অত্যন্ত জরুরী।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বেসিস জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি এম রাশিদুল হাসান, সহ-সভাপতি (অর্থ) ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসান, বেসিসের পরিচালক মীর শাহরুখ ইসলাম ও বিপ্লব ঘোষ রাহুল, এবং নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০২৪ এর আহ্বায়ক অভিজিৎ ভৌমিক, নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশ পর্বের উপদেষ্টা মোহাম্মদ মাহদী-উজ-জামান।
অনুষ্ঠানে বিগত ১০ বছরে বিশ্বব্যাপী এই প্রতিযোগীতায় টানা তিনবারসহ সর্বমোট চারবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জনের স্মৃতি রোমন্থন করে এবারেরলক্ষ্য ধরা হয়, বৈশ্বিক আসরের তিন ক্যাটাগরিতেই স্বর্ণজয়।







